শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৬ পূর্বাহ্ন
কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ
সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৬টার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে জোয়ারের পানির সাথে ডলফিনটি ভেসে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যা এর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপরা সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম ডলফিনটি দেখতে পেয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন।
এ প্রজাতির ডলফিনের মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট থাকে না। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল এবং বড় নদীগুলোতে এদের বিচরণ।
বিপন্ন এই প্রজাতি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন,বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকির ইঙ্গিত। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল’র পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য স্পষ্ট অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির বার্তা দেয়। দ্রুত কারণ উদ্ঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপরা সদস্যরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটি মাটি চাপা দেন। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
তাই দ্রুত কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মোয়াজ্জেম হোসেন
কলাপাড়া